দুঃস্বপ্নের সাতকাহন
- ইসমাইল আহসান তুহিন
যখন বিশ্বাসের আকাশে কালবৈশাখীর মেঘ,
না মেঘ নয়, বরং প্রিয়জনের সুপরিকল্পিত নীল নকশা হানা দেয়,
—তখনই মানুষ প্রথমবার বুঝতে পারে,
মৃত্যু আসলে জ্বলন্ত অগ্নীকুন্ডু থেকে পরম নিষ্কৃতি।
তিল তিল করে জমানো স্বপ্নের কারুকাজগুলো যখন কোনো কুশলী দাবারু’র চালে নিমিষেই ধূলিসাৎ হয়ে যায়,
তখন বেঁচে থাকার তৃষ্ণাটুকুও বিস্বাদ লাগে।
মানুষ তখনই মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে চায়, যখন সে দেখে:
—যাকে সে অন্ধের মতো ধ্রুবতারা ভেবেছিল, সেই তাকে নিয়ে গেছে এক অতল অন্ধকূপের কিনারে।
—একসাথে বাঁচার অঙ্গীকারগুলো যখন বিশ্বাসঘাতকতার আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে বাতাসে ওড়ে।
— হৃদয়ের সততাকে যখন কেউ স্রেফ দুর্বলতা ভেবে ‘কূটনৈতিক চালে’ গুঁড়িয়ে দেয়।
সেই মুহূর্তে পৃথিবীর সব আলো বিষাক্ত মনে হয়।
নিশ্বাস নিতে গেলে বুক ফেটে যায়,
কারণ প্রতিটি নিশ্বাস তখন কেবল ফেলে আসা মিথ্যে স্মৃতির দহন বয়ে আনে।
যখন লড়বার মতো আর কোনো ঢাল থাকে না,
যখন ফেরার মতো কোনো ঘর থাকে না,
আর বিশ্বাস করার মতো কোনো মানুষ অবশিষ্ট থাকে না—
তখনই মানুষ মনে করে,
এই প্রবঞ্চনাময় পৃথিবীর ভিড়ে বেঁচে থাকার চেয়ে মাটির শীতল অন্ধকার অনেক বেশি বিশ্বস্ত।
আশা যখন ভস্মীভূত হয়, তখন মানুষ আর জীবনের মানে খোঁজে না;
বরং সে খোঁজে এক গভীর নীরবতা—যেখানে কোনো ষড়যন্ত্র নেই,
কোনো বিশ্বাসঘাতক নেই।
যেখানে মানুষের ছলনা অন্তত আর তাকে ছুঁতে পারবে না।
©দুঃস্বপ্নের সাতকাহন
২৩ চৈত্র ১৪৩২ বাংলা
০৬ এপ্রিল ২০২৬ ইংরেজি।
মঠবাড়ীয়া, পিরোজপুর।
#তুহিনেরকলম
০৬-০৪-২০২৬
রকমারি থেকে বই কিনুন
মন্তব্যসমূহ
এখানে এপর্যন্ত 0টি মন্তব্য এসেছে।

মন্তব্য যোগ করুন
কবিতাটির উপর আপনার মন্তব্য জানাতে লগইন করুন।